জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্র সর্বসম্মতভাবে ২০১৫ সালে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য বা এসডিজি গ্রহণ করে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসডিজিতে অন্তর্ভুক্ত ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে চতুর্থটি হলো সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষালাভের সুযোগ সৃষ্টি। তবে শিক্ষাবিদরা বলছেন, এ লক্ষ্যের মধ্যে যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সেগুলো পূরণ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এসডিজির লক্ষ্য-৪-এর অন্তর্ভুক্ত প্রথম সাবকম্পোনেন্ট ৪.১-এ বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে সব ছেলে ও মেয়ে যাতে প্রাসঙ্গিক, কার্যকর ও ফলপ্রসূ অবৈতনিক, সমতাভিত্তিক ও গুণগত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারে তা নিশ্চিত করা। তবে বাংলাদেশে বিনামূল্যে শিক্ষা এখনো প্রাথমিক স্তরেই সীমাবদ্ধ। মাধ্যমিক পর্যায়ে কিছু সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়ছে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। এছাড়া শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রচলিত বিভিন্ন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা এখানে সমতাভিত্তিক ও গুণগত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিতে অন্যতম বাধা।
প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিসংখ্যান ২০২৪ অনুযায়ী দেশে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে অন্তত ১১ ধরনের। এগুলোর মধ্যে ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মোট ২ কোটি ১৮ লাখ ৩ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ কোটি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৯৬২ জন পড়ছে এসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যা মোট শিক্ষার্থীর ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ পায়। এ বিদ্যালয়গুলোয় সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও মূলধারার সব রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হয়। এছাড়া এনজিও পরিচালিতসহ বেশকিছু বিদ্যালয়ে বিনাবেতনে অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে। তবে কিন্ডারগার্টেন-ইংরেজি মাধ্যমের মতো বিদ্যালয় তুলনামূলক ব্যয়বহুল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট শিক্ষার্থীর ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ পড়ছে কিন্ডারগার্টেনে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ে দেশের ২১ হাজার ৮৬টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯ হাজার ৭৫৭টি বেসরকারি, যা মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ। মাধ্যমিক পর্যায়ে ৯৪ লাখ ৫ হাজার ৭৮৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ছে ৮৭ লাখ ৪১ হাজার ৪৮০ জন আর সরকারি মাধ্যমিকে পড়ছে ৫ লাখ ৭১ হাজার ৬৮১ জন। এছাড়া আপগ্রেডেড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ছে ৯২ হাজার ৬২৪ জন। সে হিসাবে ৯২ দশমিক ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থীই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ছে। মাধ্যমিক স্তরেও বেসরকারি বিদ্যালয়ে সরকার বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করে। এছাড়া এমপিওভুক্তির মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোকে আর্থিক বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে এ স্তরে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি, বেতন, পরীক্ষা ফিসহ অন্যান্য ফি প্রদান করতে হয়, যা দেশের নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার অন্যতম কারণ।
একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ২ হাজার ৮৮০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি ১১৭টি এবং বেসরকারি ২ হাজার ৭৬৩টি। মোট ৯ লাখ ১২ হাজার ৬৮০ শিক্ষার্থীর মধ্যে বেসরকারি কলেজে পড়ছে ৮ লাখ ২৬ হাজার ৬৮০ জন আর সরকারিতে পড়ছে ৮৬ হাজার ২০৯ জন। দশম শ্রেণী পর্যন্ত সরকার বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করলেও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে সরকার কর্তৃক পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হয় না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এসডিজির শিক্ষাসংক্রান্ত লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ যে অবস্থায় আছে তাতে ২০৩০ সালের মধ্যে তা যথাযথভাবে পূরণ করার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বিভিন্ন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সরকারের কার্যকর পরিকল্পনার অভাব এক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষত প্রাথমিকে আমাদের ১১ ধরনের শিক্ষা রয়েছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈষম্যমূলক করে তুলেছে। প্রাথমিক পর্যায়েই একটি শিশুর চিন্তা-চেতনা ও দক্ষতার ভিত তৈরি হয়। এ পর্যায়ে যদি বিভাজন থাকে তাহলে তার প্রভাব প্রতিটি ক্ষেত্রেই পড়ে। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের দিকে খেয়াল করলে দেখতে পাই, সরকারি প্রাথমিক, মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীর মধ্যে চিন্তাভাবনা ও দক্ষতায় বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। এছাড়া এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতে শিক্ষা ব্যয় বেশি, কোনোটির কম। ফলে দেশে সামাজিক ও আর্থিক যে বৈষম্য রয়েছে একজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সময়েই তার মুখোমুখি হচ্ছে।’
এক্ষেত্রে সরকারের করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকারের উচিত ছিল একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই ধরনের মৌলিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা। এছাড়া শিক্ষা ব্যয়েও সামঞ্জস্য আনা প্রয়োজন। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো শিক্ষাকে কোনো সরকারের আমলেই অগ্রাধিকার দেয়া হয় না। সরকার এ খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয় না। যদি এসডিজির লক্ষ্য অর্জন করতে হয়, অবশ্যই সরকারকে এ বিষয়গুলোয় গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে অন্তত অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’
এদিকে ধরনভেদে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রমেও রয়েছে ভিন্নতা। সরকারিভাবে স্বীকৃত বা স্বীকৃতিহীন মিলিয়ে বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত পাঁচ রকমের কারিকুলাম চালু আছে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ প্রাথমিক পর্যায়ে একই ধরনের কারিকুলামের আওতায় একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলনের কথা বলা হলেও দেড় যুগেও তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। দেশে বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হলো সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, উচ্চ মাদ্রাসাসংলগ্ন ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয়, এনজিও পরিচালিত শিক্ষা কেন্দ্র, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট স্কুল, কওমি মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়।
এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুরোপুরি সরকারি কারিকুলাম অনুসরণ করা হয়। এ কারিকুলাম সাধারণ শিক্ষা কারিকুলাম নামে পরিচিত। বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোয় সাধারণ শিক্ষা কারিকুলামে নির্ধারিত পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি বেশকিছু অতিরিক্ত বিষয়ও পড়ানো হয়। ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং উচ্চ মাদ্রাসাসংলগ্ন ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় অনুসরণ করা হয় সরকার নির্ধারিত পৃথক কারিকুলাম। এ কারিকুলাম সাধারণ মাদ্রাসা কারিকুলাম নামে পরিচিত, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। আর কওমি মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়গুলোয় সম্পূর্ণ নিজস্ব কারিকুলাম অনুসরণ করা হয়। এ দুই ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন পদ্ধতিও পুরোপুরি ভিন্ন। কওমি মাদ্রাসায় কোরআন ও হাদিস শিক্ষায় জোর দেয়া হয় সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুসরণ করা হয় বিদেশী কারিকুলাম।
কারিকুলাম ও প্রতিষ্ঠানের এ পার্থক্য বিদ্যমান আছে মাধ্যমিক স্তরেও। মাধ্যমিক স্তরে মোটা দাগে ছয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে—সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কারিগরি বিদ্যালয়, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, কওমি মাদ্রাসা ও ইংরেজি মিডিয়াম বিদ্যালয়। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বেশির ভাগ বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকার নির্ধারিত কারিকুলাম অনুসরণ করে থাকে, যা সাধারণ শিক্ষা নামে পরিচিত। কিছু বেসরকারি বিদ্যালয়ে এ কারিকুলামের পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত পাঠ্যপুস্তক অন্তর্ভুক্ত থাকে। ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং উচ্চ মাদ্রাসাসংলগ্ন ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় অনুসরণ করা হয় সরকার নির্ধারিত পৃথক কারিকুলাম। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও সরকার নির্ধারিত কারিকুলাম অনুসরণ করে। আর কওমি মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়গুলোয় সম্পূর্ণ নিজস্ব কারিকুলাম অনুসরণ করে। প্রতিষ্ঠানভেদে এসব বিদ্যালয়ের ব্যয়েও ভিন্নতা রয়েছে।
মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার তুলনামূলক বেশি। শিক্ষা পরিসংখ্যান অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ৩৫ দশমিক ৪০ শতাংশ, মাদ্রাসায় ৪০ দশমিক ২৫ শতাংশ আর কারিগরিতে ২৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ১৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ, মাদ্রাসায় ২৯ দশমিক ২৯ শতাংশ আর কারিগরিতে ৪২ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এসডিজির লক্ষ্য অর্জনের কিছু ক্ষেত্রে, যেমন নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ—এসব বিষয়ে বাংলাদেশ বেশ ভালো অগ্রগতি করেছে। তবে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতের যে বিষয়টি আছে সেখানে পিছিয়ে আছে। বিশেষত আমাদের দেশে শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পার্থক্য আছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে অভিভাবক যত বেশি অর্থ ব্যয় করতে পারবেন, তার সন্তান তত মানসম্মত শিক্ষা পাবে। শিক্ষায় এ বৈষম্য দূর করা জরুরি।’
তিনি আরো বলেন, ‘একমুখী শিক্ষা বাস্তবায়ন করা না গেলেও ইংরেজি মাধ্যম, ধর্মীয় মাধ্যমসহ মূলধারার সবগুলোকে ন্যূনতম একটা জায়গায় নিয়ে আসা জরুরি। শিক্ষানীতি-শিক্ষাক্রমে সে উদ্যোগও নেয়া হয়েছিল। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঁচটি অভিন্ন বিষয়ে পাঠদানের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু পরে আর মনিটরিং করা হয়নি। ফলে এটি বাস্তবায়নও হয়নি। আমরা মনে করি বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারের তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া উচিত। প্রথমত, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বাধ্যতামূলক অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা। এটি করা গেলে প্রাথমিক শিক্ষায় ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং তৃতীয়ত, পর্যাপ্ত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা। এছাড়া মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি অন্তত ৫০০ টাকা করা প্রয়োজন। বিষয়গুলো নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষা ক্ষেত্রে আশা করা যায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’
এদিকে এসডিজি লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিগত বছরের তুলনায় সাত ধাপ পিছিয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৭ আর বর্তমানে ১১৪। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব (এসডিজি) অতিরিক্ত দায়িত্ব মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি ২০৩০ সালের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারব। আন্দোলন, কারিকুলামসহ বিভিন্ন পরিবর্তনে আমাদের অগ্রগতি সাময়িকভাবে কিছুটা ধীর হলেও তা আমরা দ্রুত তা কাটিয়ে উঠতে পারব।’